রবিবার, ১৩ জুন, ২০১০

সূর্যগ্রহণ কিংবা আলোকময়তার দিনগুলো- ৬

এই কবিতাটাতেও আবেগের অতিশায়ন আছে, তবে তা পরিমিত। 

বিস্মিত দর্শক

আমি তোমাদের কার্নিভ্যালের এক বিস্মিত দর্শক
প্রতি মুহূর্তেই বিস্মিত হই আমি তোমাদের বিচিত্র রঙ্গ দেখে


বিস্মিত হই তোমাদের নির্বিকার মুখে নির্জলা মিথ্যে সাজানোর পটুতা দেখে
দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় অধিগত সবকিছুকে শীতল স্নায়ুতে সয়ে যাবার ক্ষমতা দেখে


বিস্মিত হই
যখন তোমরা অম্লান বদনে স্বার্থপরতার জয়ধ্বনি তোল
হৃদয়ের শ্বাসরুদ্ধ আবেগগুলো বিসর্জন দিয়ে আত্মসমর্পিত হও
শুধুমাত্র শরীরের দগদগে চাহিদায়


বিস্মিত হই
যখন তোমরা এক দল অন্য দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড় অমানুষিক ক্রূড়তায়
সে তান্ডবে ঝলসে যায় আমার চোখের জমিন


বিস্মিত হই
যখন তোমাদের এক অংশ হার মানায় উন্নয়নের পর্বতের চূড়কে
আর সে পর্বতের পাদদেশে ধ্বনিত হয় তোমাদেরই অস্তিত্বের 
উচ্ছিষ্টাংশের হাহাকার।
সরল বিস্ময়ে ভরে উঠি তোমাদের প্রয়োজনীয় বন্ধনগুলোর 
নিষ্প্রয়োজন জটিলতা দেখে।


দেখতে দেখতে হঠাত একদিন থমকে দাঁড়াই, শ্লথ হয়ে আসে গতি
উপলব্ধি করি নিজের ভোঁতা হয়ে আসা বোধগুলোর সুপ্ততা
ভীত হয়ে উঠি নিজেরই প্রতিক্রিয়াহীনতার শীতলতায়
সহসা, বহুদিন বাদে- কিছুটা বিস্মিত!
এবং আশ্বস্ত হই
স্রষ্টাপ্রদত্ত বিস্ময়বোধটুকু এখনও হারিয়ে ফেলিনি ভেবে।


কার্নিভ্যালের নিত্যনতুন আলোকচ্ছটায় আজও আমি বিস্ময়ে অন্ধ।
তোমাদের কার্নিভ্যাল।


~~~

৩।১২।'০৪
ঢাকা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন