সোমবার, ৩১ মে, ২০১০

সূর্যগ্রহণ কিংবা আলোকময়তার দিনগুলো- ৩

অর্থহীন

আকাশের শোকের চেয়ে পাইপের পানির দাপটই বেশি
কিছুক্ষণের শোকে মূহ্যমান প্রকৃতির বিহ্বলতার রং কেটে যাচ্ছে
ধীরে ধীরে...
ভেতরের পাক খাওয়া অর্থহীন ঘোরের সাথে, নীর্গ্রন্থ অস্থিরতার সাথে

সূর্যগ্রহণ কিংবা আলোকময়তার দিনগুলো- ২

সেই সময়কার কবিতাগুলোর মধ্যে এটা আমার বেশ পছন্দের। আর ক'টা কবিতার সাথে এটা কলেজ ম্যাগাজিনের জন্যে দিয়েছিলাম, অন্য আর দুটোর পাশাপাশি এটাও ছাপা হয়েছিল।


প্রশ্ন

নিশ্চল অবসন্ন পৃথিবী আজ এখানে থমকে, এ শহরের প্রান্তে
যেখানে প্রোথিত জন্ম-জন্মান্তরের আকাঙ্খিত নির্জলা নিরবতা
হাতড়ালে উঠে আসে সরস সজীবতা মুঠি মুঠি
কোলাহলের ক্লান্তিহীন দেদীপ্যমান প্রদীপশিখা এখানে স্তিমিত
ঝিঁঝিপোকার ছন্দময় কোরাসে ঝিমিয়ে পড়ে নোঙরছেঁড়া মন।


সূর্যগ্রহণ কিংবা আলোকময়তার দিনগুলো- ১

ক্লাস এইট এর শেষের দিক থেকে গদ্যকবিতা প্রথম লেখা শুরু করি। তখন দিনগুলো ছিল অদ্ভুত আলো-আধারিতে ভরা, নবলব্ধ জ্ঞানের আলোকবাণে বা ছায়ায় জর্জরিত। নতুন চোখে দেখা সে জগত কি বিভীষিকাময় রূপেই না সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, আর একা আমি কুঁকড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে চৌচির হয়ে গেছিলাম, সেই খন্ড-বিখন্ড অস্তিত্ব থেকে জন্ম নিয়েছিল আরেক স্বত্তা, যার সাথে পরিচিত হতে কেটে গেছে আরো বহু সময়।
তখনকার কবিতাগুলো থেকে বাছাই করা কিছু প্রথমে ব্লগে রাখব, সময় অনুক্রমে। কবিতাগুলো বেশিরভাগই ভাবে বা ভাষায় তেমন পরিণত নয়, বয়ঃসন্ধির টানাপোড়েনের ছাপ প্রায় সবগুলোরই শরীর জুরে লেপ্টে আছে। তবু প্রথম দিকের কবিতা বলে আমার কাছে এগুলোর মূল্যায়ন ভিন্ন। শুরু করছি সবচেয়ে পুরনোগুলোর একটি থেকে।

আবার জীবনানন্দ

একটা সময় গেছে রাত-দিন জীবনানন্দের কবিতায় ডুবে থাকতাম। ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসে লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা পড়া, কোচিং এ যাওয়ার সময় বগলে করে জীবনানন্দের কবিতার বইখানা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। কবিতায় বিভোর হওয়া কাকে বলে তা আমি জীবনানন্দের কবিতার মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছি। অনভ্যস্ত অপরিশীলিত কন্ঠে আবৃত্তিও করার চেষ্টা করেছি মাঝে-সাঝে। ফলতঃ যা হল তা হল আমার সে সময়কার কবিতাগুলোর জীবনানন্দীয় চালচলন গ্রহন। এবং অস্বীকার করব না অগ্রজ এই কবির প্রভাব এখনও আমার কবিতার ভাবে না হলেও ভাষায় খানিকটা হলেও বিদ্যমান। আমার অবশ্য তাতে মন্দ লাগে না। বরং কবির একটি অংশকে আমি সযত্নে নিজের মাঝে লালন করি।

রবিবার, ৩০ মে, ২০১০

কিংশুক-কথন

শৈশব থেকেই বইয়ের নেশা, সেই নেশা নিয়ে যায় গভীরতর সর্বনাশের দিকে- লেখালেখি। বাবা-মায়ের স্বপ্ন-- মেয়ে বড় কিছুই হবে। বাবা গর্ব করে বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়ান- সে কিন্তু দার্শনিক, সব কিছু ভুলে যায়। অর্থাৎ, সবকিছু ভুলে যায় তাই দার্শনিক। ঠোঁটে হাসি ফোটে- এতই সহজ!

হ্যাঁ- কবিতা ছোটবেলা থেকেই কমবেশি লেখা হয় বটে। তবে সেগুলো কবিতা হয়ে ওঠে কিনা শেষমেষ, জানা নেই। ভাবনাগুলোও বোধয় তেমন সুসংগঠিত হয়ে ওঠেনি। শুধু কৃষ্ণচূড়ার লাল হরফগুলো রঞ্জিত করে। আবার কখনো কখনো বাতাসি পাখির ডানায় ভর দেয় তারা, বীণাবাদকের সুরে মোহিত, মন্থর বাতাসে।

অন্যের কথায় প্রভাবিত, উত্তেজিত হওয়া আমার জন্য নতুন কিছু নয়। তাই প্রায়ই বিভিন্ন বই পড়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে লিখতে বসে যাই, লেখকের ভাব-ভাষা আর নিজস্ব অনুভূতি নিয়ে কিছু কাটাছেড়া চলে। বেশ উপভোগ করেই করি সেগুলো। নিজেকেই শানিত করতে। মৌলিক লেখার সংখ্যা কম, তার মধ্যে কবিতারই প্রাধান্য। গদ্য তেমন লেখা হয় না, তবে চেষ্টা করছি ইদানিং গদ্যের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে।

এটাই আমার প্রথম বাংলায় ব্যক্তিগত ব্লগ। আমার নতুন-পুরনো সব লেখাই এখানে রাখার চেষ্টা করব। ব্লগটা রাখার উদ্দেশ্য লেখাগুলো সব অন্তর্জালের এক জায়গায় গুছিয়ে রাখা।

অন্তর্জালে আমার এই নতুন যাত্রা, জানালার ওপাশে এক জোতির্ময় বিকেলের অভিনন্দনে তার শুরু-- যাত্রা শুভ হোক...