সোমবার, ৩১ মে, ২০১০

আবার জীবনানন্দ

একটা সময় গেছে রাত-দিন জীবনানন্দের কবিতায় ডুবে থাকতাম। ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসে লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা পড়া, কোচিং এ যাওয়ার সময় বগলে করে জীবনানন্দের কবিতার বইখানা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। কবিতায় বিভোর হওয়া কাকে বলে তা আমি জীবনানন্দের কবিতার মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছি। অনভ্যস্ত অপরিশীলিত কন্ঠে আবৃত্তিও করার চেষ্টা করেছি মাঝে-সাঝে। ফলতঃ যা হল তা হল আমার সে সময়কার কবিতাগুলোর জীবনানন্দীয় চালচলন গ্রহন। এবং অস্বীকার করব না অগ্রজ এই কবির প্রভাব এখনও আমার কবিতার ভাবে না হলেও ভাষায় খানিকটা হলেও বিদ্যমান। আমার অবশ্য তাতে মন্দ লাগে না। বরং কবির একটি অংশকে আমি সযত্নে নিজের মাঝে লালন করি।


মানুষের কল্পনাশক্তি কোন পর্যায়ে পৌঁছালে 'হরিণেরা'-র মত কবিতা লেখা সম্ভব হয় তা জানি না।আপাতদৃষ্টিতে তেমন কোন তাতপর্য নেই অথচ পড়ার সময় বাকি জগতই কেমন মূল্যহীন হয়ে পড়ে। আমার সবচেয়ে প্রিয় জীবনানন্দের এই কবিতা দিয়েই ব্লগ উদ্বোধন করব স্থির করলাম।

~~~হরিণেরা~~~

স্বপ্নের ভিতর বুঝি- ফাল্গুনের জ্যোৎস্নার ভিতরে
দেখিলাম পলাশের বনে খেলা করে

হরিণেরা; রূপালি চাঁদের হাত শিশিরে পাতায়;
বাতাস ঝাড়িছে ডানা- মুক্তা ঝরে যায়

পল্লবের ফাঁকে ফাঁকে- বনে বনে- হরিণের চোখে;
হরিণেরা খেলা করে হাওয়া আর মুক্তার আলোকে।

হীরের প্রদীপ জ্বেলে শেফালিকা বোস যেন হাসে
হিজল ডালের পিছে অগণন বনের আকাশে,-

বিলুপ্ত ধূসর কোন পৃথিবীর শেফালিকা, আহা,
ফাল্গুনের জ্যোৎস্নায় হরিণেরা জানে শুধু তাহা।

বাতাস ঝাড়িছে ডানা, হীরা ঝরে হরিণের চোখে-
হরিণেরা খেলা করে হাওয়া আর হীরার আলোকে।

---

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন