ধ্বংসস্তূপ
যাত্রার শুরু এখান থেকে-
আলো-ভালোবাসায় রঙিন এক পূর্ণ পৃথিবী,
কিশোরীর মুখে, ছোট্ট এ বুকে, মন মেলে দেখা সহজ সুখে
আনন্দের গুঞ্জরন।
স্বপ্নের রঙ্গে লুটোপুটি মন, ছোট এ মুঠিতে চেনা ভুবন।
এগোচ্ছি আর দেখছি ধ্বংসস্তুপ।
আমার চেনা পৃথিবীর ধ্বংসস্তূপ।
বিস্মিত আমার ভীত দু'চোখে নাচছে ধ্বংসের নিশ্ছিদ্র ছায়া।
রংগুলো সব সজীবতা হারিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে ধূসরতায়
ধূসরতা? নাতো!
ধূসরতাও যে রঙ, এ তো বিবর্ণতা!
শূণ্য ঘরে শূণ্য মানুষের ধ্বংসস্তূপ
একাকিত্বের লেলিহান শিখায় দগ্ধ মানুষ, হাত বাড়ায় আমার দিকে-
ভয়ে পিছিয়ে আসি আমি।
আবার এগিয়ে চলি।
সর্বহারা মানুষের ক্ষয়িষ্ণু ভালোবাসার ধ্বংসস্তূপ।
তার যন্ত্রণাহীন ফাঁকা দৃষ্টি যেন ভেতরটা হেনে দেয়।
বিহ্বল আমি সরে আসি নির্জনতা হাতড়ে।
আবারও সম্মোহিতের মত এগিয়ে চলা।
শিউরে উঠি আমার সেই একমুঠো পৃথিবীর ভাঙচুরের বিশালতায়।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আমার সেই পরিচিত সবুজের ভস্ম
বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে থাকি সীমাহীন প্রান্তরের অপরিচিত রুদ্রতায়।
সর্বাঙ্গের বিরোধিতা অস্বীকার করে চলছি টলোমলো পায়ে
হঠাত থমকে দাঁড়াই আপন মানুষগুলোর ধ্বংসস্তূপের কাছে
হতাশা, স্বার্থপরতা, জটিলতার দূরারোগ্য ব্যাধিতে জরজর তাদের অস্তিত্ব
কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি ছিটকে বেড়িয়ে আসি।
যন্ত্রের মত হেঁটে চলি সহস্র ধ্বংসের বিভতসতার মাঝে।
এবং হঠাত
দাঁড়িয়ে পড়তে হয় নিজ ধ্বংসস্তূপের কিনারায়
দেখতে থাকি আত্মগ্লানি, হীনতা ও জরার পুরনো কীটেদের
আমার সর্বস্ব কুড়ে কুড়ে খাওয়া
পচতে, গলতে থাকা আমি ও আমার ধ্বংসস্তূপ।
যাত্রার শেষ হল কি? জানা নেই।
দূরে দাঁড়িয়ে অস্পষ্ট কিছু মানুষের প্রতিকৃতি, কিংবা মানুষের ধ্বংসস্তূপ
তাদেরই দলে ভিড়তে যাচ্ছি আমি।
---
৬।১১।'০৪
ঢাকা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন